ওয়েবসাইট বানানোর আগে জানা দরকার
ডিজিটাল বিশ্বে এখন প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যক্তি পর্যায়ে সবাই
ঝুঁকছেন নিজস্ব ওয়েব সাইট বানানোর দিকে। আর এই সাইট বানানোর আগে কিছু
প্রয়োজনীয় বিষয় জানা প্রয়োজন। সেসব নিয়েই আলোচনা করেছেন ওয়েব প্রযুক্তি
নিয়ে কাজ করা নাদিম হাসান।
ওয়েব সাইট বানানোর আগে যেসব তথ্য জানা প্রয়োজন লেখাটি দুই পর্বে প্রকাশ করা হবে দৈনিক মানবকণ্ঠের অনালাইনের পাঠকদের জন্যে। আজ থাকছে প্রথম পর্ব।
ডোমেইন নেম-
ধরুন আপনাকে যদি আমি ডাক দিতে চাই কি ভাবে ডাকবো? অবশ্যই নাম ধরে, নাম ধরে কিভাবে আপনার মুখ দেখে। আমরা কাউকে ডাকতে চাইলে তার নাম, ঠিকানা জানতে হবে। ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রে এই ঠিকানাটা হচ্ছে তার নাম, যাকে বলা হয় ডোমেইন।
তাই ওয়েবসাইট বানানোর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হবে একটি Domain নামের, Domain হলো ঠিকানা বা সহজভাবে যদি বলি যে কোনো নাম, যেমন কাউকে ডাক দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নামের প্রয়োজন ঠিক তেমনি ওয়েবসাইট বানানোর আগে নাম বাছাই করা জরুরি।
এই ডোমেইনের নামই নিজের ওয়েবসাইটকে চিহ্নিত করবে।
ওয়েব সাইট নির্দিষ্ট আই্পিতে হোস্ট করা থাকে যা মনে রাখা কষ্টকর তাই সহজে মনে রাখার জন্য আইপিকে টেক্সটে রূপান্তর করা হয় যা Domain নামে পরিচিত।
ডোমেইন নেমকে কতকগুলি লেভেলে ভাগ করা হয়ে থাকে। প্রায় ২৪০টি উপ-লেভেল ডোমেইন আছে, বাকি সবই থাকে এদের অধীনে একটা ট্রি স্ট্রাকচারে। এদের মধ্যে ওয়েবসাইট এর জন্য .com /.net /.org /.xyz /.gov ব্যবহার করেন। আবার সকল দেশেরই নিজস্ব টপ লেভেল ডোমেইন আছে। যেমন – বাংলাদেশের bd, জাপানের jp, ব্রিটেনের Uk ইত্যাদি।
যেমন : www.amihobouddokta.com, www.u6host.com
হোস্টিং-
নিজের ওয়েবসাইটের জন্য নিজে যেই ফাইল লিখা হয় সেগুলো অনলাইনে কোথাও না কোথাও রাখতে হবে, যাতে সেখান থেকে দর্শনার্থীরা সহজেই সেগুলো দেখতে পারেন। নিজের জানা থাকে না ঠিক কখন তারা দেখতে চাইবে। তাই প্রয়োজন হবে Hosting এর। Hosting হলো স্পেস যেখানে ওয়েবসাইটের ফাইলগুলোকে সংরক্ষন করে রাখা হয়।
যেমন: আপনার মোবাইলে ফাইল সেভ রাখতে মেমোরি এর প্রয়োজন হয়। তেমনি ভাবে, ওয়েবসাইটের ফাইল সেভ করে রাখার জন্য Hosting এর প্রয়োজন হবে।
আপনার বাসায় যে কম্পিউটার আছে সেটিকে ও আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর হোস্টিং বা স্পেস বা জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন যদি ওই পিসিতে ইন্টারনেট কানেকশন থাকে। সেক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে আপনার পিসিকে বন্ধ করা যাবে না। কারণ পিসি বন্ধ হয়ে গেলে বা ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ হয়ে গেলে, ওই সময়ে কেউ আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে আপনার ওয়েবসাইটটি খুঁজে পাবে না, খুঁজে না পাওয়ার কারণ আপনার ডাটাবেজের ফাইল খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা অন্য কারো ডাটা সেন্টার ভাড়া নিয়ে থাকি। এমন অনেক কোম্পানি আছে যারা ডাটা সেন্টার ভাড়া দিয়ে থাকেন, তাদের পিসি কখনো বন্ধ না হয়, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুব্যবস্থা করে রাখেন ।
Hosting অনেক রকমের আছে, যেমন : শেয়ারর্ড Hosting, ভিপিএস এবং ডেডিকেটেড সার্ভার।
ধরুন আপনার একটি কম্পিউটার আছে, আপনি এটি ভাড়া দিতে চান। অর্থাৎ তো আপনি এটা একজন কে ভাড়া দিলেন মানে পুরো কম্পিউটারটাই ভাড়া দিয়ে দিলেন। এর মানে এখন এটা যদি সার্ভারের ক্ষেত্রে বিবেচনা করেন তাহলে সে আপনার থেকে ডেডিকেটেড সার্ভার কিনেছে। এখন যিনি ক্রয় করেছে আপনার থেকে তিনি দেখলেন তার পিসিতে অনেক স্পেস, র্যাম এবং সিপিউ রিসোর্স অব্যবহৃত পরে আছে। সুতরাং সে চিন্তা করলো এই অব্যবহৃত রিসোর্স আরো কয়েক জনের কাছে বিক্রি করবে। সুতরাং সে ভার্চুয়াল কিছু সিস্টেম তৈরী করলো। আপনারা অনেকেই VMWare কিংবা Virtual Box ব্যবহার করে একই পিসিতে একাধিক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেছেন কিন্তু ব্যাপার টা এমন। সে ভার্চুয়াল কিছু সিস্টেম বানিয়ে পুরো কম্পিউটার টাকে অনেকগুলো ভাগে ভাগ করে ফেললো। প্রতিটা ভাগে ইচ্ছা মত র্যাম , সিপিইউ দিয়ে দিল। এখন যারা তার থেকে এই ভাগ গুলো কিনছে তারা হলো VPS কিনছে অর্থাৎ Virtual Private Server ক্রয় করছে। এটি কয়েক ধরনের আছে, যেমন: openvz, xen server, kvm ইত্যাদি। তবে প্রধানত দুইরকম:
১. ডেডিকেটেড রিসোর্স
২. শেয়ারড রিসোর্স
ধরুন মেইন পিসি তে ১০ জিবি র্যাম আছে। আপনি সবাইকে ১জিবি করে র্যাম দিলেন, কিন্তু অনেকের ১জিবি র্যা্মের প্রয়োজন নেই আবার অনেকের ১জিবির বেশী প্রয়োজন। সুতরাং শেয়াড ভিপিএস এ রিসোর্স শেয়ারর্ড হবে। অর্থাৎ আপনার ব্যবহার এর পর যদি রিসোর্স ফাকা থাকে তবে তা অন্যরা ব্যবহার করতে পারবে। এর প্রধান অসুবিধা হলো আপনি ২জিবি র্যাম কিনলেও পরিপূর্ন ২জিবি পাবেন না কম কিংবা বেশী পাবেন। যেমন : OpenVZ VPS
আর ডেডিকেটেড ভিপিএস এ আপনাকে যা দেওয়া হবে তাই ই আপনি পাবেন অন্যরা এতে ভাগ পাবে না কিংবা আপনি অন্যদের টার ভাগ পাবেন না। যেমন: KVM VPS ।
এবার ধরুন কেউ একটা ভিপিএস কিনলো, কিন্তু দেখলো তার ভিপিএস এ দেওয়া জায়গার দরকার হচ্ছে না তার আরো কম রিসোর্সেই চলছে। তখন সে ভিপিএস কে আরো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করে নিলো। আর এগুলোই হলো শেয়ার্ড Hosting, দাম কম এর জন্য পৃথিবীতে এটিই বেশী পরিমানে বিক্রি হয়।
আরো কিছু টার্ম-
প্রোভাইডার: যাদের নিজেদের ডেটাসেন্টার আছে এবং বিক্রি করে।
রিসেলার: যারা প্রোভাইডার থেকে সার্ভিস কিনে তা সাধারন ইউজারদের কাছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগ করে বিক্রি করে।
ওয়েব সাইট বানানোর আগে যেসব তথ্য জানা প্রয়োজন লেখাটি দুই পর্বে প্রকাশ করা হবে দৈনিক মানবকণ্ঠের অনালাইনের পাঠকদের জন্যে। আজ থাকছে প্রথম পর্ব।
ডোমেইন নেম-
ধরুন আপনাকে যদি আমি ডাক দিতে চাই কি ভাবে ডাকবো? অবশ্যই নাম ধরে, নাম ধরে কিভাবে আপনার মুখ দেখে। আমরা কাউকে ডাকতে চাইলে তার নাম, ঠিকানা জানতে হবে। ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রে এই ঠিকানাটা হচ্ছে তার নাম, যাকে বলা হয় ডোমেইন।
তাই ওয়েবসাইট বানানোর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হবে একটি Domain নামের, Domain হলো ঠিকানা বা সহজভাবে যদি বলি যে কোনো নাম, যেমন কাউকে ডাক দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নামের প্রয়োজন ঠিক তেমনি ওয়েবসাইট বানানোর আগে নাম বাছাই করা জরুরি।
এই ডোমেইনের নামই নিজের ওয়েবসাইটকে চিহ্নিত করবে।
ওয়েব সাইট নির্দিষ্ট আই্পিতে হোস্ট করা থাকে যা মনে রাখা কষ্টকর তাই সহজে মনে রাখার জন্য আইপিকে টেক্সটে রূপান্তর করা হয় যা Domain নামে পরিচিত।
ডোমেইন নেমকে কতকগুলি লেভেলে ভাগ করা হয়ে থাকে। প্রায় ২৪০টি উপ-লেভেল ডোমেইন আছে, বাকি সবই থাকে এদের অধীনে একটা ট্রি স্ট্রাকচারে। এদের মধ্যে ওয়েবসাইট এর জন্য .com /.net /.org /.xyz /.gov ব্যবহার করেন। আবার সকল দেশেরই নিজস্ব টপ লেভেল ডোমেইন আছে। যেমন – বাংলাদেশের bd, জাপানের jp, ব্রিটেনের Uk ইত্যাদি।
যেমন : www.amihobouddokta.com, www.u6host.com
হোস্টিং-
নিজের ওয়েবসাইটের জন্য নিজে যেই ফাইল লিখা হয় সেগুলো অনলাইনে কোথাও না কোথাও রাখতে হবে, যাতে সেখান থেকে দর্শনার্থীরা সহজেই সেগুলো দেখতে পারেন। নিজের জানা থাকে না ঠিক কখন তারা দেখতে চাইবে। তাই প্রয়োজন হবে Hosting এর। Hosting হলো স্পেস যেখানে ওয়েবসাইটের ফাইলগুলোকে সংরক্ষন করে রাখা হয়।
যেমন: আপনার মোবাইলে ফাইল সেভ রাখতে মেমোরি এর প্রয়োজন হয়। তেমনি ভাবে, ওয়েবসাইটের ফাইল সেভ করে রাখার জন্য Hosting এর প্রয়োজন হবে।
আপনার বাসায় যে কম্পিউটার আছে সেটিকে ও আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর হোস্টিং বা স্পেস বা জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন যদি ওই পিসিতে ইন্টারনেট কানেকশন থাকে। সেক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে আপনার পিসিকে বন্ধ করা যাবে না। কারণ পিসি বন্ধ হয়ে গেলে বা ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ হয়ে গেলে, ওই সময়ে কেউ আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে আপনার ওয়েবসাইটটি খুঁজে পাবে না, খুঁজে না পাওয়ার কারণ আপনার ডাটাবেজের ফাইল খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা অন্য কারো ডাটা সেন্টার ভাড়া নিয়ে থাকি। এমন অনেক কোম্পানি আছে যারা ডাটা সেন্টার ভাড়া দিয়ে থাকেন, তাদের পিসি কখনো বন্ধ না হয়, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুব্যবস্থা করে রাখেন ।
Hosting অনেক রকমের আছে, যেমন : শেয়ারর্ড Hosting, ভিপিএস এবং ডেডিকেটেড সার্ভার।
ধরুন আপনার একটি কম্পিউটার আছে, আপনি এটি ভাড়া দিতে চান। অর্থাৎ তো আপনি এটা একজন কে ভাড়া দিলেন মানে পুরো কম্পিউটারটাই ভাড়া দিয়ে দিলেন। এর মানে এখন এটা যদি সার্ভারের ক্ষেত্রে বিবেচনা করেন তাহলে সে আপনার থেকে ডেডিকেটেড সার্ভার কিনেছে। এখন যিনি ক্রয় করেছে আপনার থেকে তিনি দেখলেন তার পিসিতে অনেক স্পেস, র্যাম এবং সিপিউ রিসোর্স অব্যবহৃত পরে আছে। সুতরাং সে চিন্তা করলো এই অব্যবহৃত রিসোর্স আরো কয়েক জনের কাছে বিক্রি করবে। সুতরাং সে ভার্চুয়াল কিছু সিস্টেম তৈরী করলো। আপনারা অনেকেই VMWare কিংবা Virtual Box ব্যবহার করে একই পিসিতে একাধিক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেছেন কিন্তু ব্যাপার টা এমন। সে ভার্চুয়াল কিছু সিস্টেম বানিয়ে পুরো কম্পিউটার টাকে অনেকগুলো ভাগে ভাগ করে ফেললো। প্রতিটা ভাগে ইচ্ছা মত র্যাম , সিপিইউ দিয়ে দিল। এখন যারা তার থেকে এই ভাগ গুলো কিনছে তারা হলো VPS কিনছে অর্থাৎ Virtual Private Server ক্রয় করছে। এটি কয়েক ধরনের আছে, যেমন: openvz, xen server, kvm ইত্যাদি। তবে প্রধানত দুইরকম:
১. ডেডিকেটেড রিসোর্স
২. শেয়ারড রিসোর্স
ধরুন মেইন পিসি তে ১০ জিবি র্যাম আছে। আপনি সবাইকে ১জিবি করে র্যাম দিলেন, কিন্তু অনেকের ১জিবি র্যা্মের প্রয়োজন নেই আবার অনেকের ১জিবির বেশী প্রয়োজন। সুতরাং শেয়াড ভিপিএস এ রিসোর্স শেয়ারর্ড হবে। অর্থাৎ আপনার ব্যবহার এর পর যদি রিসোর্স ফাকা থাকে তবে তা অন্যরা ব্যবহার করতে পারবে। এর প্রধান অসুবিধা হলো আপনি ২জিবি র্যাম কিনলেও পরিপূর্ন ২জিবি পাবেন না কম কিংবা বেশী পাবেন। যেমন : OpenVZ VPS
আর ডেডিকেটেড ভিপিএস এ আপনাকে যা দেওয়া হবে তাই ই আপনি পাবেন অন্যরা এতে ভাগ পাবে না কিংবা আপনি অন্যদের টার ভাগ পাবেন না। যেমন: KVM VPS ।
এবার ধরুন কেউ একটা ভিপিএস কিনলো, কিন্তু দেখলো তার ভিপিএস এ দেওয়া জায়গার দরকার হচ্ছে না তার আরো কম রিসোর্সেই চলছে। তখন সে ভিপিএস কে আরো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করে নিলো। আর এগুলোই হলো শেয়ার্ড Hosting, দাম কম এর জন্য পৃথিবীতে এটিই বেশী পরিমানে বিক্রি হয়।
আরো কিছু টার্ম-
প্রোভাইডার: যাদের নিজেদের ডেটাসেন্টার আছে এবং বিক্রি করে।
রিসেলার: যারা প্রোভাইডার থেকে সার্ভিস কিনে তা সাধারন ইউজারদের কাছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগ করে বিক্রি করে।



No comments