ঢিলেঢালা লকডাউন নারায়ণগঞ্জে
গার্মেন্টস খুলে দেয়ায় রাস্তাঘাটের চিত্র দেখে মানুষের মধ্যে একটা ভুল
তথ্য ছড়াচ্ছে। সেই তথ্যটা হল-লকডাউন উঠে যাচ্ছে। মে মাসের শুরুতেই নাকি
লকডাউন থাকবেনা।
ভিত্তিহীন এই তথ্যটি মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে শহর ও শহরতলীতে। নারায়ণগঞ্জ মহানগরী ও আশপাশ এলাকার চিত্র দেখলে কথাটির সাদৃশ্য মিলে। মনে হবে বুঝিবা লকডাউন ঢিলেঢালা হয়ে গেছে। শুধু শহরের বিভিন্ন মার্কে, সুপার মার্কেট ও শপিংমলগুলো বন্ধ থাকার চিত্রটি মোটা দাগে চোখে ধরা পড়লেও আর কোন কিছুতেই লকডাউনের বালাই নেই।
শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাড়া মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। এরপর ২নং রেলগেইট থেকে নিতাইগঞ্জ মোড় পর্যন্ত গতকাল দুপুর নাগাদ কোন পুলিশ সদস্য চোখে পড়েনি। গাড়ি চলাচল কম। ডায়মন্ড চত্বরে লোক সমাগম কম ছিল।
তবে দ্বিগুবাবুর বাজারের অবস্থা ভয়াবহ। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মুখে মাস্ক পড়লেও সামাজিক দূরত্ব মানছেনা কেহ। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বেপরোয়া। একজন সদাই নিচ্ছেনতো তার গাঁ ঘেঁেষ আরো দু’তিনজন ক্রেতা ঢুকে যাচ্ছেন। সবার মধ্যেই একটা তাড়াহুড়ো ভাব। দেশে করোনা সংকট চলছে এ কথাটি বোধ হয় সকলেই ভুলে গেছে।
বিশেষ করে বাজারে এলে সবাই ভুলে যায় লকডাউনের কথা। সবাই ভাবছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আসলে মোটেও তা নয়। বরং এতে করে মানুষের বিপদ বাড়বে।
নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রতি জোর অনুরোধ করে পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম বলেন, আপনারা দয়া করে ঘরে থাকুন। লকডাউন শিথিল হয়নি। করোনার পরিস্থিতি মোটেও ভাল নয়। সামাজিক দূরত্ব না মানলে মহামারী ঘটে যেতে পারে। গার্মেন্টস খুলে দেয়ায় সমস্যা বেড়েছে। মানুষ এখন আর লকডাউন মানতে চাচ্ছেনা।
লকডাউনে পুলিশ কিভাবে দায়িত্ব পালন করছে এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, নারায়ণগঞ্জের ইন-আউট পয়েন্টে ২২ টি চেকপোস্ট রয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৪০ জন পুলিশ সদস্য ও র্যাবের ৩০ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যেই পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
রাস্তায় ও পাড়া মহল্লার গলির মুখে ৪০ টি চেকপোস্ট ও পেট্রল পোস্ট রয়েছে। নদীতে নৌ-পেট্রল রয়েছে ৪টি। তাছাড়া পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। গার্মেন্টস খুলে দেয়ায় ও সাপ্লাই চেইন চালু থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে লকডাউন ভাঙ্গার প্রবণতা তৈরী হচ্ছে। সাপ্লাই চেইনে প্রতিদিন শহরে ১ লাখ লোক চলাচল করে।
সাপ্লাই চেইনে ১২০টি মিল-কারখানা রয়েছে। সাপ্লাইচেইনে রয়েছে নিতাইগঞ্জের আটা-ময়দা, চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, বেবি ফুড, গো-খাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্য সামগ্রী। সিদ্ধিরগঞ্জে আছে জ্বালানী তেলের ডিপো। দেশের জরুরী অবস্থায় এ সকল সাপ্লাই চেইন খোলা আছে।
এখানে প্রতিনিয়িত ১ লাখ লোক চলাচল করছে। এদের দেখে সাধারণ মানুষ মনে করছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আসলে মোটেও তা নয়। সবার উচিৎ ঘরে থাকা। একান্ত প্রয়োজন না হলে কেউ যেন বাইরে বের না হয়।
গতকাল সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন বাজার ও মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে লকডাউন পরিস্থিতি নেই। মহল্লায় লোকজন স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করছে। দোকানে দোকানে ভিড়। মহল্লার রাস্তায় রিক্সাজট। মহল্লার মোড়ে জমজমাট মাছের বাজার। কোথাও কেউ সতর্ক নয়।
দুপুর ১১টা নাগাদ শহরের বাবুরাইল বৌবাজারে গিয়ে দেখা যায় মানুষের ভিড়। বাজারের পুরনো শেডে ক্রেতাদের ভিড় কম। নতুন শেডে মাছ বাজার অংশে ক্রেতা সামলানো দায়। মুরগীর দোকানদার জানালেন, সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বাজারে প্রচন্ড ভিড় থাকে। কেহ সামাজিক দূরত্ব মানেনা।
বাজারে রাস্তার পশ্চিম পাশে মুদি দোকানে কেহ দূরত্ব মানছেনা। দোকানী সতর্ক করলেও তার কথা কেহ শুনছেন না। মাছ বিক্রেতা সুবল বলেন, ‘ভাই আমাগো কি দোষ। মানুষ কথা শোনেনা। আমরা কই দূরে দাঁড়ান। নইলে সমস্যা অইতে পারে।
কিন্তু আমাগো কথা বড় বড় মাইনষে শুনতে চায়না। আমরাও বিপদে আছি। পেটের দায়ে মাছ বেচি। বাজার চললে আমাগো কোন সমস্যা নাই। আগে পুলিশ আইতো অহন আহেনা। মানুষ এখন করোনা ডরায়না।’
এরপর নয়াপাড়া দিয়ে পাইকপাড়া হয়ে জিমখানা আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায় অস্থায়ী কাঁচাবাজার। দ্বিগুবাবুর বাজারের কাঁচাবাজার অংশটি এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পশ্চিম পাশ দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়লো মানুষের ভিড়। সবার মুখেই মাস্ক ছিল। কিন্তু কেহই সামাজিক দূরত্ব মানছিলেন না।
সোনালী সকাল ক্রীড়া ও সেবা সংঘের বারান্দায় কন্ট্রোল রুম থেকে কিছুক্ষণ পর পরম মাইকিং করা হচ্ছিল। ‘আপনারা সবাই মাস্ক পড়ুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। কেউ নিয়ম শৃংখলা লংঘন করবেন না।’
কন্ট্রোল রুমে অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যরা জানালেন, নাসিক ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এখানে জনগণের স্বার্থে বাজার বসানো হয়েছে। প্রতিদিন ২০০ দোকান বসে এই মাঠে।
নিতাইগঞ্জ মোড় সদাব্যস্ত ব্যবসায়িক এলাকা। রাস্তার পাশে সারি সারি ট্রাক। কোন ট্রাকে মালামাল লোড করা হচ্ছে। কোনো ট্রাক থেকে মালামাল করা হচ্ছে আনলোড। শ্রমিকদের মুখে মাস্ক। তবে তারা সামাজিক দূরত্বের কথা ভুলে গেছে।
এই প্রতিবেদক বিষয়টি মনে করিয়ে দিতেই একজন লেবার সর্দার তেতে উঠেন। বলেন, ভাই সাব আমরা মজুর খাটা কামলা। পেটের দায়ে কামে আইছি। কেউ এক ফোঁটা চালও আমাগো দিবনা। পেটের জ্বালায় কাম করি। মুখে মাস্ক পরছি। বাকিটা আল্লায় দেখবো। আমাগো শ্রমিকরা নিয়মিত হাত ধোয়।
দুপুর ১টা নাগাদ শহরের মন্ডলপাড়া ব্রীজ চত্বরটি ছিল একেবারে ফাঁকা। বাবুরাইলের রাস্তার মুখে বাঁশের চেকপোস্ট। বাবুরাইল থেকে কোন গাড়ি শহরে ঢুকতে পারবেনা। জিমখানা মোড়ে অটোস্ট্যান্ডে অনেক অটো ছিল যাত্রীর আশায়।
শহরের ডিআইটি মার্কেট এলাকার ইলেক্ট্রিক মার্কেট বন্ধ। ডিআইটি মসজিদের সামনে ফল বিক্রেতাদের ভিড়। এরপর ফুটপাতে বসেছে কিছু হকার। টুকটাক কেনা বেচা হচ্ছে।
দেলওয়ার হোসাইন মার্কেট এর দোতালায় আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক অবস্থিত। মার্কেটের গলি থেকে দোতালা পর্যন্ত ছিল গ্রাহকের ভিড়। অধিকাংশ লোক টাকা তুলতে এসেছেন। সামাজিক দূরত্ব পুরোপুরি মানেনি গ্রাহকগণ।
দুপুর সোয়া ১টা নাগাদ ২নং রেলগেইট চত্বরে এসে দেখা যায় ট্রাফিক বক্সে পুলিশ নেই। ডায়মন্ড চত্বর ফাঁকা। একটিু এগিয়ে ফকিরটোলা মসজিদের কাছাকাছি যেতেই চোখে পড়ে মানুষের ভিড় ও হৈচৈ। রেললাইনের দু’পাশের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সামাজিক দূরত্ব ছিলনা। অনেকের মুখে মাস্কও ছিলনা।
ফলপট্টিতে ও পাইকারী দোকানগুলোতে ছিল জমজমাট বেচাকেনা। তবে এ পাশে দ্বিগুবাবুর বাজারে মীরজুমলা সড়কে পরিস্থিতি ছিল লকডাউন পরিপন্থি। দোকানগুলোতে প্রচন্ড ভিড়। সামনে এগিয়ে কালিরবাজারেও লোকজনের ভিড় চোখে পড়ে।
খানপুর মোড়ে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন ৩ জন পুলিশ সদস্য। চাষাড়া মোড়েও চেকপোস্টে পুলিশ ছিল কড়াকড়ি। কিন্তু বাকি শহরজুড়ে সামাজিক দূরত্ব লংঘনের মচ্ছব চলছে। যা ভয়ংকর পরিনতি ঘটাতে পারে বলে আশংকা করছেন বোদ্ধামহল। মানুষ ঘরে বসে না থাকলে মৃত্যুর মিছিল ঠোকানো যাবেনা।
ভিত্তিহীন এই তথ্যটি মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে শহর ও শহরতলীতে। নারায়ণগঞ্জ মহানগরী ও আশপাশ এলাকার চিত্র দেখলে কথাটির সাদৃশ্য মিলে। মনে হবে বুঝিবা লকডাউন ঢিলেঢালা হয়ে গেছে। শুধু শহরের বিভিন্ন মার্কে, সুপার মার্কেট ও শপিংমলগুলো বন্ধ থাকার চিত্রটি মোটা দাগে চোখে ধরা পড়লেও আর কোন কিছুতেই লকডাউনের বালাই নেই।
শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাড়া মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। এরপর ২নং রেলগেইট থেকে নিতাইগঞ্জ মোড় পর্যন্ত গতকাল দুপুর নাগাদ কোন পুলিশ সদস্য চোখে পড়েনি। গাড়ি চলাচল কম। ডায়মন্ড চত্বরে লোক সমাগম কম ছিল।
তবে দ্বিগুবাবুর বাজারের অবস্থা ভয়াবহ। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মুখে মাস্ক পড়লেও সামাজিক দূরত্ব মানছেনা কেহ। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বেপরোয়া। একজন সদাই নিচ্ছেনতো তার গাঁ ঘেঁেষ আরো দু’তিনজন ক্রেতা ঢুকে যাচ্ছেন। সবার মধ্যেই একটা তাড়াহুড়ো ভাব। দেশে করোনা সংকট চলছে এ কথাটি বোধ হয় সকলেই ভুলে গেছে।
বিশেষ করে বাজারে এলে সবাই ভুলে যায় লকডাউনের কথা। সবাই ভাবছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আসলে মোটেও তা নয়। বরং এতে করে মানুষের বিপদ বাড়বে।
নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রতি জোর অনুরোধ করে পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম বলেন, আপনারা দয়া করে ঘরে থাকুন। লকডাউন শিথিল হয়নি। করোনার পরিস্থিতি মোটেও ভাল নয়। সামাজিক দূরত্ব না মানলে মহামারী ঘটে যেতে পারে। গার্মেন্টস খুলে দেয়ায় সমস্যা বেড়েছে। মানুষ এখন আর লকডাউন মানতে চাচ্ছেনা।
লকডাউনে পুলিশ কিভাবে দায়িত্ব পালন করছে এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, নারায়ণগঞ্জের ইন-আউট পয়েন্টে ২২ টি চেকপোস্ট রয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৪০ জন পুলিশ সদস্য ও র্যাবের ৩০ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যেই পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
রাস্তায় ও পাড়া মহল্লার গলির মুখে ৪০ টি চেকপোস্ট ও পেট্রল পোস্ট রয়েছে। নদীতে নৌ-পেট্রল রয়েছে ৪টি। তাছাড়া পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। গার্মেন্টস খুলে দেয়ায় ও সাপ্লাই চেইন চালু থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে লকডাউন ভাঙ্গার প্রবণতা তৈরী হচ্ছে। সাপ্লাই চেইনে প্রতিদিন শহরে ১ লাখ লোক চলাচল করে।
সাপ্লাই চেইনে ১২০টি মিল-কারখানা রয়েছে। সাপ্লাইচেইনে রয়েছে নিতাইগঞ্জের আটা-ময়দা, চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, বেবি ফুড, গো-খাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্য সামগ্রী। সিদ্ধিরগঞ্জে আছে জ্বালানী তেলের ডিপো। দেশের জরুরী অবস্থায় এ সকল সাপ্লাই চেইন খোলা আছে।
এখানে প্রতিনিয়িত ১ লাখ লোক চলাচল করছে। এদের দেখে সাধারণ মানুষ মনে করছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আসলে মোটেও তা নয়। সবার উচিৎ ঘরে থাকা। একান্ত প্রয়োজন না হলে কেউ যেন বাইরে বের না হয়।
গতকাল সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন বাজার ও মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে লকডাউন পরিস্থিতি নেই। মহল্লায় লোকজন স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করছে। দোকানে দোকানে ভিড়। মহল্লার রাস্তায় রিক্সাজট। মহল্লার মোড়ে জমজমাট মাছের বাজার। কোথাও কেউ সতর্ক নয়।
দুপুর ১১টা নাগাদ শহরের বাবুরাইল বৌবাজারে গিয়ে দেখা যায় মানুষের ভিড়। বাজারের পুরনো শেডে ক্রেতাদের ভিড় কম। নতুন শেডে মাছ বাজার অংশে ক্রেতা সামলানো দায়। মুরগীর দোকানদার জানালেন, সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বাজারে প্রচন্ড ভিড় থাকে। কেহ সামাজিক দূরত্ব মানেনা।
বাজারে রাস্তার পশ্চিম পাশে মুদি দোকানে কেহ দূরত্ব মানছেনা। দোকানী সতর্ক করলেও তার কথা কেহ শুনছেন না। মাছ বিক্রেতা সুবল বলেন, ‘ভাই আমাগো কি দোষ। মানুষ কথা শোনেনা। আমরা কই দূরে দাঁড়ান। নইলে সমস্যা অইতে পারে।
কিন্তু আমাগো কথা বড় বড় মাইনষে শুনতে চায়না। আমরাও বিপদে আছি। পেটের দায়ে মাছ বেচি। বাজার চললে আমাগো কোন সমস্যা নাই। আগে পুলিশ আইতো অহন আহেনা। মানুষ এখন করোনা ডরায়না।’
এরপর নয়াপাড়া দিয়ে পাইকপাড়া হয়ে জিমখানা আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায় অস্থায়ী কাঁচাবাজার। দ্বিগুবাবুর বাজারের কাঁচাবাজার অংশটি এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পশ্চিম পাশ দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়লো মানুষের ভিড়। সবার মুখেই মাস্ক ছিল। কিন্তু কেহই সামাজিক দূরত্ব মানছিলেন না।
সোনালী সকাল ক্রীড়া ও সেবা সংঘের বারান্দায় কন্ট্রোল রুম থেকে কিছুক্ষণ পর পরম মাইকিং করা হচ্ছিল। ‘আপনারা সবাই মাস্ক পড়ুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। কেউ নিয়ম শৃংখলা লংঘন করবেন না।’
কন্ট্রোল রুমে অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যরা জানালেন, নাসিক ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এখানে জনগণের স্বার্থে বাজার বসানো হয়েছে। প্রতিদিন ২০০ দোকান বসে এই মাঠে।
নিতাইগঞ্জ মোড় সদাব্যস্ত ব্যবসায়িক এলাকা। রাস্তার পাশে সারি সারি ট্রাক। কোন ট্রাকে মালামাল লোড করা হচ্ছে। কোনো ট্রাক থেকে মালামাল করা হচ্ছে আনলোড। শ্রমিকদের মুখে মাস্ক। তবে তারা সামাজিক দূরত্বের কথা ভুলে গেছে।
এই প্রতিবেদক বিষয়টি মনে করিয়ে দিতেই একজন লেবার সর্দার তেতে উঠেন। বলেন, ভাই সাব আমরা মজুর খাটা কামলা। পেটের দায়ে কামে আইছি। কেউ এক ফোঁটা চালও আমাগো দিবনা। পেটের জ্বালায় কাম করি। মুখে মাস্ক পরছি। বাকিটা আল্লায় দেখবো। আমাগো শ্রমিকরা নিয়মিত হাত ধোয়।
দুপুর ১টা নাগাদ শহরের মন্ডলপাড়া ব্রীজ চত্বরটি ছিল একেবারে ফাঁকা। বাবুরাইলের রাস্তার মুখে বাঁশের চেকপোস্ট। বাবুরাইল থেকে কোন গাড়ি শহরে ঢুকতে পারবেনা। জিমখানা মোড়ে অটোস্ট্যান্ডে অনেক অটো ছিল যাত্রীর আশায়।
শহরের ডিআইটি মার্কেট এলাকার ইলেক্ট্রিক মার্কেট বন্ধ। ডিআইটি মসজিদের সামনে ফল বিক্রেতাদের ভিড়। এরপর ফুটপাতে বসেছে কিছু হকার। টুকটাক কেনা বেচা হচ্ছে।
দেলওয়ার হোসাইন মার্কেট এর দোতালায় আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক অবস্থিত। মার্কেটের গলি থেকে দোতালা পর্যন্ত ছিল গ্রাহকের ভিড়। অধিকাংশ লোক টাকা তুলতে এসেছেন। সামাজিক দূরত্ব পুরোপুরি মানেনি গ্রাহকগণ।
দুপুর সোয়া ১টা নাগাদ ২নং রেলগেইট চত্বরে এসে দেখা যায় ট্রাফিক বক্সে পুলিশ নেই। ডায়মন্ড চত্বর ফাঁকা। একটিু এগিয়ে ফকিরটোলা মসজিদের কাছাকাছি যেতেই চোখে পড়ে মানুষের ভিড় ও হৈচৈ। রেললাইনের দু’পাশের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সামাজিক দূরত্ব ছিলনা। অনেকের মুখে মাস্কও ছিলনা।
ফলপট্টিতে ও পাইকারী দোকানগুলোতে ছিল জমজমাট বেচাকেনা। তবে এ পাশে দ্বিগুবাবুর বাজারে মীরজুমলা সড়কে পরিস্থিতি ছিল লকডাউন পরিপন্থি। দোকানগুলোতে প্রচন্ড ভিড়। সামনে এগিয়ে কালিরবাজারেও লোকজনের ভিড় চোখে পড়ে।
খানপুর মোড়ে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন ৩ জন পুলিশ সদস্য। চাষাড়া মোড়েও চেকপোস্টে পুলিশ ছিল কড়াকড়ি। কিন্তু বাকি শহরজুড়ে সামাজিক দূরত্ব লংঘনের মচ্ছব চলছে। যা ভয়ংকর পরিনতি ঘটাতে পারে বলে আশংকা করছেন বোদ্ধামহল। মানুষ ঘরে বসে না থাকলে মৃত্যুর মিছিল ঠোকানো যাবেনা।



No comments